সোমবার, মে ২০, ২০২৪

ভাঙ্গা থেকে যশোরের পথে উচ্চগতির পরীক্ষামূলক ট্রেন চালু

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের ভাঙ্গা জংশন থেকে যশোরের রুপদিয়ার উদ্দেশ্যে পরীক্ষামূলক ট্রায়াল ট্রেন চলাচল করছে। শনি ও রবিবার দুই দিন মালবাহী এবং যাত্রীবাহী কোচ নিয়ে যাতায়াতের মাধ্যমে রেল পথের পরীক্ষামূলক সক্ষমতা যাচাই করা হবে। পরীক্ষামূলক যাতায়াত শেষে খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিক ভাবে এই পথে চলাচল করবে উচ্চ গতির ট্রেন।
শনিবার (৩০ মার্চ) সকাল ৮.৪২ মিনিটে ফরিদপুরের ভাঙ্গা জংশন থেকে পাথর বোঝাই দুটি বগি নিয়ে মালবাহী ট্রেনটি যশোরের রূপদিয়া ষ্ট্রেশনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ৮৩ দশমিক ৩ কিলোমিটার পথ পারি দিয়ে যশোর থেকে ফিরে আবার ভাঙ্গা জংশনে এসে পুনরায় ৫টি বগি বিশিষ্ট একটি যাত্রীবাহী কোচ নিয়ে পুনরায় ট্রায়াল দিবে ট্রেনটি। দুটি ইঞ্জিন ও দুটি মালবাহী বগি নিয়ে প্রথমবারের মতো ১২০ কিলোমিটার সর্বোচ্চ গতিতে রূপদিয়ার দিকে পরীক্ষামূলক ভাবে ছুটেছে ট্রেনটি। এই ট্রেন সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার গতিতে চলাচল করবে বলে জানিয়েছেন রেলকর্তৃপক্ষ। প্রায় ১ ঘন্টায় ভাঙ্গা জংশন থেকে যশোরের রূপদিয়া স্টেশনে আসা যাওয়া করবে এই পরীক্ষামূলক ট্রেনগুলো।

স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন শেষে ইতিমধ্যে কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে ফরিদপুর, রাজবাড়ী হয়ে যশোর, রাজশাহীসহ দক্ষিন অঞ্চলের সাথে ট্রেন চলাচল করছে। রেল প্রকল্পের রেলপথের নির্মাণ কাজ শেষে ভাঙ্গা জংশন থেকে সরাসরি যশোরে পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচল করায় নতুন দ্বার উন্মোচন হতে চলেছে বলে মনে করছেন এই অঞ্চলের মানুষ। কম সময়ে অনেক পথ না ঘুরে সরাসরি উচ্চ গতিরে ট্রেনে চড়ে পন্য ও যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু করবে খুব শীঘ্রই। যার কারণে এ অঞ্চলের মানুষের আরেকটি নতুন স্বপ্ন পুরন হওয়ায় খুশি তারা।

ট্রেনের চালক মো: শাখওয়াত হোসেন জানান, সকাল পৌনে নয়টায় পাথর বোঝাই একটি মালবাহী ট্রেনে দুটি বগি নিয়ে যশোরের উদ্যোশ্যে রওনা দেয়। যশোর পৌছে সেখান থেকে কিছু সময় পর আবার ভাঙ্গার উদ্দেশ্যে রওনা দিবো। এসে আবার যাত্রীবাহী ৫টি কোচ নিয়ে যশোর যাবে। এভাবে দুইদিন পরীক্ষামূলক যাওয়া আসা করবে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো: সোহাগ জানান, এখন ঢাকা-যশোর রেলপথ চালু হওয়ায় আমরা খুশি। এটা একটা নিরাপদ জার্নি। ভাঙ্গা থেকে বেনাপোল আগে অনেক ঘুরে যেতে হতো এখন ভাঙ্গা থেকে বেনাপোল সরাসরি যাওয়া যাবে, সোজা রোড, সময় কম লাগবে।

অপর স্থানীয় আলিমুজ্জামান জানান, পদ্মা সেতু হয়ে সরাসরি যশোর যাবে এতে মানুষের আরেকটি স্বপ্ন পুরন হলো। কৃষি প্রধান জেলার কৃষিপন্য সহজে ট্রেনে পরিবহন করতে পারবে। যশোর থেকে ঢাকায় ও ফরিদপুর থেকে যশোর, খুলনায় সরাসরি পন্য নিতে পারবে। এতে অনেক উপকার হবে।

রেলপথটি ঢাকার কমলাপুর থেকে শুরু হয়ে নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ এবং নড়াইলের ওপর দিয়ে যশোর গিয়ে শেষ হয়েছে। চলমান রেললিংক প্রকল্প শেষ হলে যশোর থেকে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টায় ঢাকা যাওয়া সম্ভব হবে। আর দুরত্ব কমবে ১৯৩ কিলোমিটার। এতে পরিবেশবান্ধব ও অধিকতর নিরাপদ ট্রেন যাত্রায় মানুষের চলাচলের গতিতে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে।

স্থানীয় অজয় কুমার জানান, এই ট্রায়ালটি সম্পন্ন হওয়ার পর খুব শীঘ্রই ভাঙ্গা থেকে যশোর সরাসরি যেতে পারবো, এতে অনেক আনন্দ লাগছে। আমরা যশোর, বেনাপোল, খুলনা খুব কম সময়ে ও অল্প খরচে যাতায়াত করতে পারবো। আবার যশোর থেকে বিভিন্ন পন্য নিয়ে ভাঙ্গায় আসতে পারবো। আগে এই অঞ্চলের মানুষের যে স্বপ্ন ছিল সেই স্বপ্ন একে একে বাস্তবায়ন হচেছ। এক্সপ্রেসওয়ে, পদ্মা সেতু নির্মান তার পর ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ভাঙ্গা-ফরিদপুরে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। এবার ভাঙ্গা থেকে যশোরের রূপদিয়া পর্যন্ত পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচল শুরু হওয়া খুশি তারা।

আজ ট্রায়াল ট্রেনের চালক ছিলেন মোঃ সাখাওয়াত হোসেন। পরীক্ষামূলক ট্রেন যাত্রায় সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছেন সেনাবাহিনী ও  রেল প্রকল্পে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। নতুন রেললাইন চালু হওয়ার সংবাদে রেল লাইনের আশে-পাশের মানুষের মধ্যে চলছে উৎসবের আমেজ। এর মধ্যদিয়ে এই অঞ্চলের যাতায়াতের আরেকটি নতুন দ্বার উন্মোচিত হলে।

- Advertisement -spot_img
- Advertisement -spot_img
আরও
- Advertisement -spot_img